মূল কনটেন্টে যান
ফিরে যান
চাকরির প্রতারণা০৮ জানু, ২০২৬2 মিনিট পড়াCyberWise BD Awareness Post

টেলিগ্রাম ভিআইপি টাস্ক স্ক্যাম: ভুক্তভোগীর ১০ কোটির বেশি টাকা ক্ষতির দাবি

সিআইডি জানায়, টেলিগ্রামভিত্তিক টাস্ক/ইনভেস্টমেন্ট চক্রে ভুয়া লাভের ড্যাশবোর্ড ও ভিআইপি-স্টাইল আপগ্রেডের চাপ ব্যবহার করে এক ভুক্তভোগীর ক্ষতি ১০ কোটির বেশি হয়েছে বলে অভিযোগ ওঠে।

২০২৬ সালের জানুয়ারির শুরুতে সিআইডি টেলিগ্রামভিত্তিক টাস্ক ও বিনিয়োগ প্রতারণা চক্রের আরেক সদস্যকে গ্রেপ্তারের কথা জানায়। তদন্তে এক ভুক্তভোগীর ১০ কোটির বেশি টাকা ক্ষতির দাবি উঠে আসে, যা দেখায় এই ধরনের তথাকথিত অনলাইন আয়ের স্কিম কত দ্রুত ভয়াবহ আর্থিক বিপর্যয়ে রূপ নিতে পারে।

এই ঘটনাটি তথাকথিত উচ্চস্তরের টাস্ক প্রতারণা বা ভিআইপি টাস্ক মডেলের সঙ্গে মিলে যায়: শুরুতে সামান্য লাভ বা সফল উইথড্র দেখিয়ে আস্থা তৈরি করা হয়। এরপর বড় লাভের লোভ দেখিয়ে VIP unlock, premium task, বা উচ্চ কমিশনের ধাপ খুলতে আরও বড় অংকের ডিপোজিট চাওয়া হয়।

বড় অংকের টাকা ঢোকার পর ভুয়া সিস্টেম উইথড্র আটকে দেয় এবং activation charge, tax, security fee, বা balance mismatch correction-এর মতো নতুন নতুন অজুহাতে আরও টাকা দাবি করে। প্রতিবারই বলা হয়, এটিই শেষ ধাপ, কিন্তু তার পরেই আবার নতুন দাবি আসে।

এটি সাধারণ একধাপের চাকরি প্রতারণা থেকে আলাদা, কারণ এটি ধাপে ধাপে বিনিয়োগের ফানেল তৈরি করে। প্রতারকরা ভুক্তভোগীকে আগের টাকা উদ্ধার করার আশা দেখিয়ে মানসিকভাবে আটকে রাখে, ফলে অনেকে শুরুর পরিকল্পনার চেয়ে অনেক বেশি টাকা পাঠিয়ে ফেলেন।

কোনো অ্যাপ, Telegram group, বা task manager যদি বলে নিজের ব্যালেন্স ছাড়াতে আরও top-up করতে হবে, ধরে নিন ব্যালেন্সটি ভুয়া। সব চ্যাট, অ্যাপের স্ক্রিনশট, wallet ID, এবং ব্যাংক বা এমএফএস লেনদেনের প্রমাণ সংরক্ষণ করুন, এবং sunk-cost ফাঁদ বড় ক্ষতিতে রূপ নেওয়ার আগেই থেমে যান।


সূত্র

  • বিএসএস — একই টেলিগ্রাম টাস্ক/বিনিয়োগ চক্রের আরেক সদস্যকে সিআইডির গ্রেপ্তারের খবর (জানুয়ারি ২০২৬) — প্রতিবেদন পড়ুন
  • ঢাকা ট্রিবিউন — একই চক্রের মূলহোতাসহ আগের গ্রেপ্তারের খবর প্রকাশ করে — প্রতিবেদন পড়ুন

প্রতারকরা সাধারণত যেভাবে কাজ করে

  • টাস্ক/ইনভেস্টমেন্ট অ্যাপ শুরুতে ছোট লাভ দেখায়।
  • বেশি লাভের জন্য বড় ডিপোজিট দিতে বলে।
  • টাকা তুলতে আবার নতুন ফি দাবি করে।

নিরাপদ থাকার বাস্তব উপায়

  • টাকা তুলতে আবার টাকা চাইলে সাথে সাথে বন্ধ করুন।
  • গ্রুপের চাপ বা স্ক্রিনশট দেখে বিনিয়োগ করবেন না।
  • সব প্রমাণ রেখে দ্রুত অভিযোগ করুন।

সন্দেহ হলে এখনই যা করবেন

  1. 1সাথে সাথে যোগাযোগ বন্ধ করুন; আর টাকা বা কোড পাঠাবেন না।
  2. 2প্রমাণ রাখুন: স্ক্রিনশট, নম্বর, লিংক, ট্রানজেকশন আইডি, সময়।
  3. 3ব্যাংক/এমএফএস/অপারেটরে যোগাযোগ করে দ্রুত অ্যাক্সেস ফ্রিজ করুন।
  4. 4দ্রুত জিডি করুন এবং সাইবার কর্তৃপক্ষকে রিপোর্ট করুন।

প্রধান শিক্ষা

ভুয়া VIP লাভ আসলে sunk-cost ফাঁদ। নিজের টাকা তুলতে বারবার ডিপোজিট লাগলে সঙ্গে সঙ্গে থামুন।

সম্পর্কিত গল্প

১২ জুন, ২০২৬

কম্বোডিয়ার সাইবার প্রতারণার আস্তানা: ভুয়া চাকরির ফাঁদে পড়ে ৩৭ বাংলাদেশির দেশে ফেরা

আরও পড়ুন
১৩ জানু, ২০২৬

টেলিগ্রাম চাকরি প্রতারণা চক্র: ডিএমপি গোয়েন্দা বিভাগের হাতে গ্রেপ্তার ৮ জন, ৫ জনই চীনা নাগরিক

আরও পড়ুন
১১ জানু, ২০২৬

টেলিগ্রাম টাস্ক প্রতারণা: ১.১০ কোটি টাকা আত্মসাৎ মামলায় সিআইডির হাতে আরেক সদস্য গ্রেপ্তার

আরও পড়ুন