টেলিগ্রাম টাস্ক প্রতারণা: ১.১০ কোটি টাকা আত্মসাৎ মামলায় সিআইডির হাতে আরেক সদস্য গ্রেপ্তার
সিআইডি জানায়, টেলিগ্রামভিত্তিক টাস্ক/ইনভেস্টমেন্ট চক্র ছোট অংকের শুরুর লাভ দেখিয়ে, উইথড্র আটকে রেখে এবং ধারাবাহিক ডিপোজিটের চাপ দিয়ে এক ভুক্তভোগীর কাছ থেকে ১ কোটি ১০ লাখ ৫৮ হাজার ৩০৫ টাকা নেয়।
১১ জানুয়ারি ২০২৬ তারিখে CID, Bangladesh Police জানায়, টেলিগ্রামভিত্তিক টাস্ক ও বিনিয়োগ প্রতারণা চক্রের আরেক সদস্যকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। সিআইডি জানায়, গ্রেপ্তারকৃত মো. সোহেল মিয়া (৪১)-কে ১০ জানুয়ারি ২০২৬ তারিখে ঢাকার যাত্রাবাড়ীর ধলপুর এলাকা থেকে সাইবার পুলিশ সেন্টারের একটি আভিযানিক দল আটক করে।
সিআইডির তথ্যমতে, এ চক্রটি এক ভুক্তভোগীর কাছ থেকে ৪টি পৃথক বিকাশ অ্যাকাউন্ট ও ৯টি ব্যাংক অ্যাকাউন্টের মাধ্যমে মোট ১ কোটি ১০ লাখ ৫৮ হাজার ৩০৫ টাকা হাতিয়ে নেয়। প্রতারণার শুরু ২০২৪ সালের ডিসেম্বরে, যখন একটি অজ্ঞাত WhatsApp নম্বর থেকে ভুক্তভোগীকে অনলাইন পার্ট-টাইম জবের প্রস্তাব দেওয়া হয় এবং বাসায় বসে আয় করার আশায় তিনি রাজি হন।
পরবর্তী ধাপে তাকে একটি সাইটে ওয়ালেট খুলে টাস্ক করতে বলা হয়। শুরুতে ১৫০ টাকা আয় দেখানো হয়। এরপর ২৮টি টাস্ক সম্পন্ন করলে ৩৮ হাজার টাকা পাওয়া যাবে বলে প্রলোভন দেখানো হয় এবং ১৪টি টাস্ক শেষে ২,১০০ টাকা আয়ও দেখানো হয়। এই ছোট ছোট শুরুর লাভ ছিল আস্থা তৈরি করার কৌশল।
এরপর শুরু হয় মূল ফাঁদ। তাকে বলা হয়, ২,০০০ টাকা বিনিয়োগ করলে ২,৮০০ টাকা ফেরত পাওয়া যাবে। টাস্ক শেষ করার পর ওয়ালেটে টাকা জমা দেখালেও তিনি উত্তোলন করতে পারেননি। বিষয়টি জানালে প্রতারক চক্র একটি বিকাশ নম্বরে টাকা পাঠাতে বলে, না হলে জমাকৃত অর্থ তোলা যাবে না বলে জানায়। সিআইডি বলছে, এইভাবে ধাপে ধাপে চাপ তৈরি করে বহু বিকাশ ও ব্যাংক অ্যাকাউন্টে টাকা পাঠাতে বাধ্য করা হয়।
ভুক্তভোগী টাকা ফেরত চাইলে তাকে প্রাণনাশের হুমকিসহ ভয়ভীতি দেখানো হয়। পরে তিনি প্রতারণা বুঝতে পেরে ২১ মে ২০২৫ তারিখে লালবাগ থানায় মামলা করেন। সিআইডি আরও জানায়, এই মামলায় মূলহোতা নাদিমকে ৫ ডিসেম্বর ২০২৫ তারিখে গ্রেপ্তারের পর আদালতে হাজির করা হলে সে জবানবন্দিতে অন্যান্য আসামির নাম প্রকাশ করে, যার সূত্র ধরে মো. সোহেল মিয়াকে গ্রেপ্তার করা সম্ভব হয়।
CyberWise BD সতর্কতা: task job scam-এর শুরুতে অল্প লাভ দেখানো হয় শুধু বিশ্বাস অর্জনের জন্য। যদি নিজের টাকা তুলতে আবার ডিপোজিট করতে হয়, বা ব্যক্তিগত বিকাশ/ব্যাংক অ্যাকাউন্টে টাকা পাঠাতে বলা হয়, সঙ্গে সঙ্গে থামুন। সব চ্যাট, ওয়ালেট স্ক্রিনশট, অ্যাকাউন্ট নম্বর ও ট্রানজেকশন রসিদ সংরক্ষণ করুন এবং দ্রুত অভিযোগ করুন।
প্রতারকরা সাধারণত যেভাবে কাজ করে
- টাস্ক/ইনভেস্টমেন্ট অ্যাপ শুরুতে ছোট লাভ দেখায়।
- বেশি লাভের জন্য বড় ডিপোজিট দিতে বলে।
- টাকা তুলতে আবার নতুন ফি দাবি করে।
নিরাপদ থাকার বাস্তব উপায়
- টাকা তুলতে আবার টাকা চাইলে সাথে সাথে বন্ধ করুন।
- গ্রুপের চাপ বা স্ক্রিনশট দেখে বিনিয়োগ করবেন না।
- সব প্রমাণ রেখে দ্রুত অভিযোগ করুন।
সন্দেহ হলে এখনই যা করবেন
- 1সাথে সাথে যোগাযোগ বন্ধ করুন; আর টাকা বা কোড পাঠাবেন না।
- 2প্রমাণ রাখুন: স্ক্রিনশট, নম্বর, লিংক, ট্রানজেকশন আইডি, সময়।
- 3ব্যাংক/এমএফএস/অপারেটরে যোগাযোগ করে দ্রুত অ্যাক্সেস ফ্রিজ করুন।
- 4দ্রুত জিডি করুন এবং সাইবার কর্তৃপক্ষকে রিপোর্ট করুন।
প্রধান শিক্ষা
শুরুর ছোট আয় আসল লাভ নয়, ফাঁদ। টাকা তুলতে আবার ডিপোজিট বা ব্যক্তিগত বিকাশ/ব্যাংক হিসাবে পাঠাতে বললে সেটি প্রতারণা।