মূল কনটেন্টে যান
ফিরে যান
চাকরির প্রতারণা১২ জুন, ২০২৬5 মিনিট পড়াCyberWise BD Awareness Post

কম্বোডিয়ার সাইবার প্রতারণার আস্তানা: ভুয়া চাকরির ফাঁদে পড়ে ৩৭ বাংলাদেশির দেশে ফেরা

প্রতিবেদন অনুযায়ী, আকর্ষণীয় কম্পিউটারের কাজের প্রলোভনে বাংলাদেশি চাকরিপ্রার্থীদের বিদেশে নিয়ে সাইবার প্রতারণার আস্তানায় অনলাইনে প্রতারণা করতে বাধ্য করা হয়।

Dhaka Tribune, The Business Standard, Prothom Alo English এবং BRAC Migration Programme-এর তথ্য অনুযায়ী, কম্বোডিয়ার সাইবার প্রতারণার আস্তানা থেকে উদ্ধার হওয়ার পর ৩৭ জন বাংলাদেশি দেশে ফিরেছেন। তারা ১২ জুন ভোরে হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে পৌঁছান এবং BRAC Migration Programme তাদের জরুরি সহায়তা দেয়।

এই প্রতারণা কোনো সন্দেহজনক লিংক বা হ্যাকিং দিয়ে শুরু হয়নি; শুরু হয়েছে স্বাভাবিক চাকরির সুযোগের মতো করে। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ভুক্তভোগীদের computer operator, typist, call-centre বা অন্য ডিজিটাল অফিসের কাজের মতো আকর্ষণীয় প্রস্তাব দেওয়া হয়। ভুয়া ওয়েবসাইট, ইমেইল, Facebook, WhatsApp, Telegram বা স্থানীয় নিয়োগ নেটওয়ার্কের মাধ্যমে এসব প্রস্তাব আসতে পারে। বেতন বেশি, কাজ সহজ, এবং পুরো প্রক্রিয়া আংশিকভাবে বৈধ মনে হতে পারে।

এই বৈধ মনে হওয়াটাই সবচেয়ে বড় ফাঁদের একটি। কিছু ভুক্তভোগী স্বাভাবিক পথে ভ্রমণ করেন এবং ভাবেন তারা আসল কাজের জন্য যাচ্ছেন। কিন্তু গন্তব্যে পৌঁছানোর পর বাস্তবতা বদলে যায়। কম্বোডিয়ার ঘটনায় দেশে ফেরা মানুষেরা জানান, বাংলাদেশি মানব পাচার চক্র তাদের টাকা নিয়ে চীনা নিয়ন্ত্রিত সাইবার প্রতারণার আস্তানায় হস্তান্তর করে।

সেই আস্তানার ভেতরে ভুক্তভোগীরা আর কর্মী থাকেন না। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, তাদের ইচ্ছার বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্র ও অন্যান্য উন্নত দেশের মানুষকে লক্ষ্য করে অনলাইনে প্রতারণা করতে বাধ্য করা হয়। একই ধরনের আঞ্চলিক ঘটনায় ভুয়া বিনিয়োগের বার্তা, প্রেমের ফাঁদ, চাকরির বার্তা, সামাজিক মাধ্যমে কারসাজি এবং অন্যান্য অনলাইন প্রতারণার কৌশল ব্যবহার করা হয়েছে। অর্থাৎ যে ব্যক্তি চাকরির আশায় যান, তাকে জোর করে প্রতারক বানানো হয়।

ভয় ও বিচ্ছিন্নতার মাধ্যমে নিয়ন্ত্রণ রাখা হয়। প্রতিবেদন অনুযায়ী, এ ধরনের আস্তানায় ভুক্তভোগীর পাসপোর্ট ও ফোন কেড়ে নেওয়া হতে পারে, পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগ বন্ধ হয়ে যেতে পারে, এবং লক্ষ্যমাত্রা পূরণ না করলে শারীরিক বা মানসিক নির্যাতন হতে পারে। তাই এখানে দুই ধরনের ভুক্তভোগী থাকে: আস্তানায় আটকে থাকা বাংলাদেশিরা এবং যাদের বিরুদ্ধে তাদের দিয়ে প্রতারণা চালানো হয় সেই বিদেশি মানুষজন।

BRAC Migration Programme-এর কর্মকর্তারা সাইবার প্রতারণার উদ্দেশ্যে মানব পাচারকে মানব পাচারের ক্রমবর্ধমান ও উদ্বেগজনক একটি নতুন রূপ হিসেবে বর্ণনা করেছেন। মিয়ানমার ও দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার অন্যান্য দেশেও একই ধরনের প্রবণতা দেখা গেছে। আগের ঘটনাগুলোতে বাংলাদেশিদের থাইল্যান্ড বা অন্য পথে নিয়ে প্রতারণার আস্তানায় আটকে রাখা, ফোন ও পাসপোর্ট কেড়ে নেওয়া এবং জোর করে সাইবার প্রতারণা করানোর অভিযোগ উঠেছে।

সতর্কসংকেতগুলো স্পষ্ট, কিন্তু পরিবারের আয়ের চাপ থাকলে এগুলো উপেক্ষা করা সহজ। খুব সহজ কম্পিউটারের কাজের জন্য অস্বাভাবিক বেশি বেতন, বড় আগাম অর্থ প্রদান, লিখিত চুক্তি না দেওয়া, শুধু WhatsApp বা Telegram-এ যোগাযোগ, নিশ্চিতযোগ্য নিয়োগকর্তা না থাকা, কাজের ভিসার বদলে পর্যটক ভিসায় পাঠানোর চাপ, অথবা BMET, দূতাবাস বা সরকারি অভিবাসন মাধ্যমে যাচাই করতে নিরুৎসাহিত করা—এসব বড় সতর্কসংকেত।

বিদেশের চাকরি গ্রহণের আগে নিয়োগ সংস্থা, লাইসেন্স, নিয়োগকর্তা, ভিসার ধরন, কাজের চুক্তি, বেতন, থাকার ব্যবস্থা এবং গন্তব্যের ঠিকানা সরকারি মাধ্যমে যাচাই করুন। ঝুঁকিপূর্ণ গন্তব্য হলে বাংলাদেশ দূতাবাস বা কনস্যুলেটের সঙ্গে কথা বলুন। সব কাগজপত্র ও ভ্রমণের বিস্তারিত পরিবারের সঙ্গে ভাগ করুন। অনানুষ্ঠানিক দালালের কাছে পাসপোর্ট জমা দেবেন না, এবং শুধু Facebook পোস্ট বা দ্রুত আয়ের প্রতিশ্রুতি দেখে ভ্রমণ করবেন না।

কেউ বিদেশে আটকা পড়ে থাকলে পরিবার পাসপোর্টের বিস্তারিত তথ্য, নিয়োগকর্তার তথ্য, ফোন নম্বর, ভ্রমণ কাগজপত্র, অর্থ প্রদানের রসিদ, শেষ জানা অবস্থান এবং চ্যাটের স্ক্রিনশট সংগ্রহ করুন। প্রবাসীকল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়, বিদেশে বাংলাদেশ মিশন, মানব পাচারের সন্দেহ হলে পুলিশ বা সিআইডি, এবং BRAC Migration Programme-এর মতো সংস্থার সঙ্গে যোগাযোগ করুন।


সূত্র

  • ঢাকা ট্রিবিউন — কম্বোডিয়ার সাইবার প্রতারণার আস্তানা থেকে ৩৭ বাংলাদেশির দেশে ফেরা ও ব্র্যাকের জরুরি বিমানবন্দর সহায়তার খবর প্রকাশ করে (১২ জুন ২০২৬) — প্রতিবেদন পড়ুন
  • দ্য বিজনেস স্ট্যান্ডার্ড — একই উদ্ধার অভিযান ও ব্র্যাকের সহায়তার খবর প্রকাশ করে — প্রতিবেদন পড়ুন
  • প্রথম আলো ইংরেজি — পাচার ও স্ক্যাম সেন্টারের অবস্থার বিস্তারিত বিবরণসহ একই ঘটনার প্রতিবেদন করে — প্রতিবেদন পড়ুন
  • ইউএনবি (UNB) — কম্বোডিয়ার স্ক্যাম সেন্টার থেকে এক বাংলাদেশি নারীর উদ্ধার ও সরকারি হস্তক্ষেপের আগের ঘটনার খবর প্রকাশ করে
  • ব্র্যাক মাইগ্রেশন প্রোগ্রাম — ভুক্তভোগীদের ফাঁদে ফেলতে ব্যবহৃত ভুয়া কম্পিউটার অপারেটর ও কল-সেন্টার চাকরির প্রস্তাব নিয়ে সতর্কতায় উদ্ধৃত

প্রতারকরা সাধারণত যেভাবে কাজ করে

  • বিদেশে চাকরি/পড়াশোনার নামে বড় অংকের টাকা নেওয়া হয়।
  • পরে ভুয়া বা অকার্যকর কাগজপত্র দেওয়া হয়।
  • বড় ক্ষতির পর প্রতারণা ধরা পড়ে।

নিরাপদ থাকার বাস্তব উপায়

  • এজেন্সির লাইসেন্স ও বৈধতা আগে যাচাই করুন।
  • ভিসা/ভর্তি কাগজ অফিসিয়াল কর্তৃপক্ষে মিলিয়ে দেখুন।
  • ধাপে ধাপে টাকা দিন এবং সব রসিদ রাখুন।

সন্দেহ হলে এখনই যা করবেন

  1. 1সাথে সাথে যোগাযোগ বন্ধ করুন; আর টাকা বা কোড পাঠাবেন না।
  2. 2প্রমাণ রাখুন: স্ক্রিনশট, নম্বর, লিংক, ট্রানজেকশন আইডি, সময়।
  3. 3ব্যাংক/এমএফএস/অপারেটরে যোগাযোগ করে দ্রুত অ্যাক্সেস ফ্রিজ করুন।
  4. 4দ্রুত জিডি করুন এবং সাইবার কর্তৃপক্ষকে রিপোর্ট করুন।

প্রধান শিক্ষা

বিদেশের চাকরি সরকারি অভিবাসন মাধ্যমে যাচাই করুন। উচ্চ বেতনের কম্পিউটার অপারেটর বা কল সেন্টার চাকরি জোরপূর্বক সাইবার অপরাধের মানব পাচারের ফাঁদ হতে পারে।

সম্পর্কিত গল্প

১৩ জানু, ২০২৬

টেলিগ্রাম চাকরি প্রতারণা চক্র: ডিএমপি গোয়েন্দা বিভাগের হাতে গ্রেপ্তার ৮ জন, ৫ জনই চীনা নাগরিক

আরও পড়ুন
১১ জানু, ২০২৬

টেলিগ্রাম টাস্ক প্রতারণা: ১.১০ কোটি টাকা আত্মসাৎ মামলায় সিআইডির হাতে আরেক সদস্য গ্রেপ্তার

আরও পড়ুন
০৮ জানু, ২০২৬

টেলিগ্রাম ভিআইপি টাস্ক স্ক্যাম: ভুক্তভোগীর ১০ কোটির বেশি টাকা ক্ষতির দাবি

আরও পড়ুন