ভুয়া চাকরির অফার প্রতারণা: কীভাবে আমি ৫০,০০০ টাকা হারালাম
একজন নতুন গ্র্যাজুয়েট ফেসবুকে একটি ভুয়া বিদেশি চাকরির অফারে প্রতারিত হওয়ার গল্প এবং শিক্ষা শেয়ার করছেন।
গত মাসে ফেসবুক দেখতে দেখতে সিঙ্গাপুরে চাকরির একটি পোস্ট চোখে পড়ল। উচ্চ বেতন, থাকার ব্যবস্থা, ভিসা স্পনসরশিপ — সব মিলিয়ে দেখতে বিশ্বাসযোগ্য। পেজে হাজার হাজার লাইক, ছবিগুলোও পেশাদার।
হোয়াটসঅ্যাপে যোগাযোগ করলাম। তারা দ্রুত ও আত্মবিশ্বাসী। কয়েক দিনের মধ্যে "অফার লেটার" পাঠাল এবং চাকরি নিশ্চিত করতে ৫০ হাজার টাকা "প্রসেসিং ফি" দিতে বলল। বলল এটি স্বাভাবিক নিয়ম, সিঙ্গাপুর পৌঁছালে ফিরিয়ে দেবে।
মোবাইল ব্যাংকিংয়ে টাকা পাঠালাম। এরপর উত্তর বন্ধ। ফেসবুক পেজ গায়েব। হোয়াটসঅ্যাপ নম্বর বন্ধ। বুঝলাম প্রতারণা হয়েছে।
ডিএমপির সাইবার ক্রাইম ইউনিটে রিপোর্ট করলাম। তারা জানাল এটি বাংলাদেশের তরুণ চাকরিপ্রার্থীদের লক্ষ্য করা একটি অত্যন্ত পরিচিত প্রতারণার ধরন।
এই পোস্ট সম্পর্কে
এটি একটি প্রথম-ব্যক্তির সচেতনতামূলক বিবরণ। ভুক্তভোগী ঢাকা মহানগর পুলিশের সাইবার ক্রাইম ইউনিটে রিপোর্ট করেছিলেন, যারা নিশ্চিত করেছে এটি বাংলাদেশে যুব চাকরিপ্রার্থীদের টার্গেট করা একটি বহুল দেখা প্রতারণার ধরন। এই ধরনের ঘটনার শিকার হলে নিকটস্থ থানায় অভিযোগ করুন অথবা সিআইডি সাইবার পুলিশ সেন্টারে যোগাযোগ করুন।
প্রতারকরা সাধারণত যেভাবে কাজ করে
- বেশি বেতন বা নিশ্চিত আয়ের লোভ দেখানো হয়।
- প্রসেসিং/ট্রেনিং/অ্যাক্টিভেশনের নামে টাকা নেওয়া হয়।
- টাকা দেওয়ার পর ব্লক করে বা আবার টাকা চায়।
নিরাপদ থাকার বাস্তব উপায়
- টাকা দেওয়ার আগে লাইসেন্স, অফিস ও রেকর্ড যাচাই করুন।
- গ্যারান্টিযুক্ত আয়ের কথা বললে ঝুঁকি ধরে নিন।
- সব রসিদ ও কথোপকথনের প্রমাণ রেখে দিন।
সন্দেহ হলে এখনই যা করবেন
- 1সাথে সাথে যোগাযোগ বন্ধ করুন; আর টাকা বা কোড পাঠাবেন না।
- 2প্রমাণ রাখুন: স্ক্রিনশট, নম্বর, লিংক, ট্রানজেকশন আইডি, সময়।
- 3ব্যাংক/এমএফএস/অপারেটরে যোগাযোগ করে দ্রুত অ্যাক্সেস ফ্রিজ করুন।
- 4দ্রুত জিডি করুন এবং সাইবার কর্তৃপক্ষকে রিপোর্ট করুন।
প্রধান শিক্ষা
চাকরির আবেদনের জন্য কখনো অর্থ পরিশোধ করবেন না। বৈধ নিয়োগকারীরা কখনো আগে অর্থ চায় না। সর্বদা অফিসিয়াল চ্যানেলের মাধ্যমে কোম্পানির তথ্য যাচাই করুন এবং তাদের বাংলাদেশে কোনো সরাসরি অফিস আছে কিনা যাচাই করুন।