মূল কনটেন্টে যান
ফিরে যান
ফিশিং১৬ ফেব, ২০২৬2 মিনিট পড়াCyberWise BD Awareness Post

বিশ্বব্যাংকের নামে ঋণ ফাঁদ: সিআইডি-র জালে আন্তর্জাতিক প্রতারক চক্রের সদস্য

হোয়াটসঅ্যাপে বিশ্বব্যাংক/জাতিসংঘের নামে কম সুদের ঋণের প্রলোভন দেখিয়ে ভুয়া ফি ও ভুয়া ওয়েবসাইটের মাধ্যমে টাকা হাতিয়ে নেওয়া হচ্ছিল।

বিশ্বব্যাংক (World Bank) বা জাতিসংঘের নামে হোয়াটসঅ্যাপে কম সুদে ঋণের অফার পেলে এটিকে উচ্চ ঝুঁকির প্রতারণা হিসেবে ধরুন। সিআইডি-র সাইবার পুলিশ সেন্টার (CPC)-এর সাম্প্রতিক অভিযানে আন্তর্জাতিক প্রতারক চক্রের এক মূল সদস্যকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।

প্রতারকরা যেভাবে ফাঁদ পাতে: প্রথমে নিজেকে বিশ্বব্যাংকের "লোন অফিসার" পরিচয় দিয়ে ২% সুদে ১০-৫০ লাখ টাকার ঋণের প্রলোভন দেখায়। এরপর bdworldloanprojectcw.com বা এই ধরনের ভুয়া লিংকে আবেদন করতে বলে।

পরবর্তী ধাপে প্রসেসিং ফি, ভ্যাট, ইন্স্যুরেন্স বা ভেরিফিকেশন চার্জের নামে ধাপে ধাপে বিকাশ/নগদে টাকা নিতে থাকে। নির্দিষ্ট পরিমাণ টাকা নেওয়ার পর তারা যোগাযোগ বন্ধ করে উধাও হয়ে যায়।

সতর্ক থাকুন: বিশ্বব্যাংক বা জাতিসংঘ কখনোই ফেসবুক/হোয়াটসঅ্যাপ বা অচেনা নম্বর থেকে ব্যক্তিগতভাবে ঋণ দেয় না। ঋণের জন্য বিকাশ বা নগদের ব্যক্তিগত নম্বরে টাকা পাঠানো মানেই প্রতারণার শক্ত লক্ষণ। কোনো লিংকে ক্লিক করার আগে ডোমেইন নেম অবশ্যই যাচাই করুন।

পোস্টে উল্লেখিত তথ্যমতে গ্রেপ্তারকৃত মো. সোহাগ হোসেন (৩৫) বাংলাদেশে সিম ও এমএফএস অ্যাকাউন্ট ব্যবস্থাপনার কাজ করত। এমন প্রস্তাব পেলে বা প্রতারিত হলে দ্রুত সিআইডি সাইবার পুলিশ সেন্টারে অভিযোগ জানান।


সূত্র

  • দ্য বিজনেস স্ট্যান্ডার্ড (টিবিএস) — সোহাগ হোসেন (৩৫, লক্ষ্মীপুর)-কে সিআইডি সাইবার পুলিশ সেন্টারের গ্রেপ্তার; ভুক্তভোগীদের ভুয়া সাইটে (bdworldloanprojectcw.com) পাঠিয়ে বিকাশ/নগদে ফি আদায় (নভেম্বর ২০২৫) — প্রতিবেদন পড়ুন
  • বণিকবার্তা ইংরেজি — একই গ্রেপ্তার ও হোয়াটসঅ্যাপে ঋণ কর্মকর্তা সাজার পদ্ধতির বিবরণ — প্রতিবেদন পড়ুন
  • দ্য ডেইলি স্টার — বাংলাদেশি নাগরিকদের প্রতি বিশ্বব্যাংকের নিজস্ব সতর্কবার্তা প্রকাশ করে (নভেম্বর ২০২৫) — প্রতিবেদন পড়ুন

প্রতারকরা সাধারণত যেভাবে কাজ করে

  • বিখ্যাত প্রতিষ্ঠানের নামে কম সুদের ঋণের প্রলোভন দেয়।
  • ভুয়া সাইট/ফর্ম/চ্যাটে আবেদন করায়।
  • ধাপে ধাপে ফি নিয়ে পরে উধাও হয়ে যায়।

নিরাপদ থাকার বাস্তব উপায়

  • ব্যক্তিগত WhatsApp/Facebook ঋণের অফার বিশ্বাস করবেন না।
  • ঋণের ফি ব্যক্তিগত এমএফএস নম্বরে পাঠাবেন না।
  • টাকা দেওয়ার আগে ডোমেইন ও অফিসিয়াল নোটিশ যাচাই করুন।

সন্দেহ হলে এখনই যা করবেন

  1. 1সাথে সাথে যোগাযোগ বন্ধ করুন; আর টাকা বা কোড পাঠাবেন না।
  2. 2প্রমাণ রাখুন: স্ক্রিনশট, নম্বর, লিংক, ট্রানজেকশন আইডি, সময়।
  3. 3ব্যাংক/এমএফএস/অপারেটরে যোগাযোগ করে দ্রুত অ্যাক্সেস ফ্রিজ করুন।
  4. 4দ্রুত জিডি করুন এবং সাইবার কর্তৃপক্ষকে রিপোর্ট করুন।

প্রধান শিক্ষা

কোনো আন্তর্জাতিক প্রতিষ্ঠান ব্যক্তিগত হোয়াটসঅ্যাপ বার্তায় আগাম ফি নিয়ে ঋণ দেয় না। উৎস যাচাই করুন, ডোমেইন যাচাই করুন, এবং ব্যক্তিগত এমএফএস নম্বরে ঋণের ফি কখনো পাঠাবেন না।

সম্পর্কিত গল্প

১০ জুন, ২০২৬

ভুয়া AI ট্রাফিক জরিমানার SMS: BRTA-র মতো লিংকে ব্যাংকিং তথ্য চুরির ফাঁদ

আরও পড়ুন
১৬ ফেব, ২০২৬

ডিএমপি সতর্কবার্তা: প্রতারক চক্রের ৬টি সাধারণ কৌশল

আরও পড়ুন
১৬ জানু, ২০২৬

এনআইডি তথ্য বিক্রির সিন্ডিকেট: সিআইডির তথ্যে ব্যাপক অবৈধ অ্যাক্সেস

আরও পড়ুন