পুলিশ সদরদপ্তরের সতর্কতা: অনলাইনে কর্মকর্তাদের নাম-ছবি ব্যবহার করছে প্রতারকরা
বাংলাদেশ পুলিশ সদরদপ্তর জানিয়েছে, প্রতারকরা ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের নাম ও ছবি দিয়ে সামাজিক মাধ্যমে আইডি খুলে মানুষের কাছ থেকে অর্থ ও সুবিধা চাইছে।
২৮ জুলাই ২০২৬ তারিখে ঢাকা টাইমস জানায়, বারবার ফিরে আসা একটি প্রতারণার ধরন নিয়ে বাংলাদেশ পুলিশ সদরদপ্তর জনসতর্কতামূলক বার্তা দিয়েছে: অপরাধীরা সরকারি ও পুলিশ কর্মকর্তাদের নাম ও ছবি দিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অ্যাকাউন্ট খুলছে, এরপর সেই আইডি ব্যবহার করে সাধারণ মানুষের কাছ থেকে অর্থ ও ব্যক্তিগত সুবিধা হাতিয়ে নিচ্ছে।
সতর্কবার্তায় এমন একটি বিষয় বলা হয়েছে যা সহজে চোখ এড়িয়ে যায়। কোনো আইডিতে কর্মকর্তার নাম ও ছবি থাকলেও, ওই অ্যাকাউন্ট বা এর পেছনের মোবাইল নম্বরটি সত্যিই সেই কর্মকর্তার কিনা—তা সাধারণ নাগরিকের পক্ষে নিশ্চিত হওয়ার কোনো উপায় নেই। একটি চুরি করা ছবি আর নকল করা নাম—প্রতারকের বিশ্বাসযোগ্য দেখাতে এটুকুই যথেষ্ট। আপনি যে পরিচয় দেখছেন তা যাচাই নয়, নিছক একটি মুখোশ।
এরপরের অনুরোধটিই ফাঁদ। আইডিটি যেহেতু কোনো ঊর্ধ্বতন ব্যক্তির বলে মনে হয়, ভুক্তভোগী দ্রুত সাড়া দিতে চাপ অনুভব করেন—সেই ‘কর্মকর্তা’ টাকা পাঠাতে বলুন, ব্যক্তিগত সুবিধা চান, কিংবা কোনো জরুরি সমস্যায় সাহায্য চান। ধার করা পরিচয় দিয়ে প্রতারক আসলে এই সামাজিক চাপটাই কিনে নেয়।
CyberWise BD সতর্কতা: নাম, ছবি বা পদবি যত চিত্তাকর্ষকই হোক, সামাজিক মাধ্যমের কোনো আইডি থেকে আসা অর্থ বা সুবিধার অনুরোধকে ডিফল্টভাবে অযাচাইকৃত হিসেবে ধরুন। ইনবক্সের কথোপকথনে টাকা, নথি বা ব্যক্তিগত তথ্য পাঠাবেন না। কেউ কর্মকর্তা দাবি করলে থামুন এবং যে আইডি বার্তা দিয়েছে তার মাধ্যমে নয়, প্রতিষ্ঠানের প্রকাশিত যোগাযোগ নম্বর বা অফিসিয়াল পেজের মাধ্যমে যাচাই করুন। সন্দেহজনক ছদ্মবেশী আইডির অভিযোগ সিআইডি সাইবার পুলিশ সেন্টারে জানান অথবা ৯৯৯-এ কল করুন।
সূত্র
- ঢাকা টাইমস — জানায়, পুলিশ সদরদপ্তরের সতর্কবার্তা—প্রতারক চক্র সামাজিক মাধ্যমে সরকারি কর্মকর্তাদের নাম-ছবি ব্যবহার করে অর্থ ও সুবিধা চাইছে, এবং এমন আইডি প্রকৃত কিনা তা নিশ্চিত হওয়ার সুযোগ নেই (২৮ জুলাই ২০২৬) — প্রতিবেদন পড়ুন
প্রতারকরা সাধারণত যেভাবে কাজ করে
- ভুয়া পরিচয়/প্রোফাইল দিয়ে বিশ্বাস তৈরি করা হয়।
- সুযোগ বুঝে টাকা বা তথ্য চাওয়া হয়।
- কাজ হয়ে গেলে ব্লক করে বা অ্যাকাউন্ট গায়েব হয়।
নিরাপদ থাকার বাস্তব উপায়
- গুরুত্বপূর্ণ কিছু করার আগে পরিচয় নিশ্চিত করুন।
- খুব দ্রুত ব্যক্তিগত তথ্য শেয়ার করবেন না।
- অন্য বিশ্বস্ত চ্যানেলে মিলিয়ে দেখুন।
সন্দেহ হলে এখনই যা করবেন
- 1সাথে সাথে যোগাযোগ বন্ধ করুন; আর টাকা বা কোড পাঠাবেন না।
- 2প্রমাণ রাখুন: স্ক্রিনশট, নম্বর, লিংক, ট্রানজেকশন আইডি, সময়।
- 3ব্যাংক/এমএফএস/অপারেটরে যোগাযোগ করে দ্রুত অ্যাক্সেস ফ্রিজ করুন।
- 4দ্রুত জিডি করুন এবং সাইবার কর্তৃপক্ষকে রিপোর্ট করুন।
প্রধান শিক্ষা
কোনো আইডিতে আসল কর্মকর্তার নাম-ছবি থাকলেই তা প্রমাণ নয়—প্রকৃত সরকারি কর্মকর্তা হঠাৎ বার্তা পাঠিয়ে টাকা চান না, আর অফিসিয়াল মাধ্যমে যাচাই না করে এমন কোনো অনুরোধে কখনো বিশ্বাস করা উচিত নয়।