আমি একটি আইফোন অর্ডার করেছিলাম, একটি ইট পেলাম
ফেসবুকের ভুয়া পেজে ৬০% ছাড়ে আইফোনের লোভে পড়ে ৮০ হাজার টাকা দিয়ে একটি ইট পেলাম।
ফেসবুকে ৬০% ছাড়ে নতুন আইফোনের বিজ্ঞাপন। পেজে হাজার হাজার লাইক, ইতিবাচক মন্তব্য। বলছে নতুন মডেলের জন্য পুরোনো স্টক ছাড়ছে।
যোগাযোগ করলাম — পেশাদার, দ্রুত সাড়া। ফোনের ছবি, বক্স পাঠাল — সব দেখতে আসল। ক্যাশ অন ডেলিভারি অফার করল, তাই নিরাপদ মনে হলো।
ডেলিভারি এলো। ৮০ হাজার টাকা দিলাম। তার সামনেই বক্স খুললাম — ভেতরে প্লাস্টিকে মোড়ানো একটি ইট। ডেলিভারিম্যান বললেন, তিনি শুধু পৌঁছে দেন, বাকিটার সাথে তার সম্পর্ক নেই।
যোগাযোগ করতে গেলে পেজ ব্লক। কয়েক দিনেই পেজ গায়েব। পরে জানলাম — লাইক-কমেন্ট সব কেনা, বিশ্বাসযোগ্য দেখানোর জন্য।
এই পোস্ট সম্পর্কে
এটি একটি প্রথম-ব্যক্তির সচেতনতামূলক বিবরণ, যা ফেসবুক ভুয়া শপ প্রতারণার অভিজ্ঞতা তুলে ধরেছে। ক্রয়করা ভুয়া লাইকসহ ফেসবুক পেজের মাধ্যমে নকল পণ্য ডেলিভারি প্রতারণা বাংলাদেশে বহুল নথিভুক্ত একটি ধরন। এই ধরনের ঘটনার শিকার হলে ঢাকা মহানগর পুলিশের সাইবার ক্রাইম ইউনিট বা সিআইডি সাইবার পুলিশ সেন্টারে অভিযোগ করুন অথবা ৯৯৯-এ কল করুন।
প্রতারকরা সাধারণত যেভাবে কাজ করে
- লোভনীয় অফার দেখিয়ে দ্রুত টাকা নিতে চায়।
- লেনদেন করা হয় অননুমোদিত চ্যানেল বা প্রোফাইলে।
- শেষে ভুয়া/ভুল পণ্য দেয় বা কিছুই দেয় না।
নিরাপদ থাকার বাস্তব উপায়
- শুধু অফিসিয়াল/যাচাইকৃত চ্যানেল থেকে কিনুন।
- আগেই পণ্যের তথ্য ও পেমেন্ট শর্ত ঠিক করুন।
- অভিযোগের জন্য ইনভয়েস ও পেমেন্ট প্রমাণ রাখুন।
সন্দেহ হলে এখনই যা করবেন
- 1সাথে সাথে যোগাযোগ বন্ধ করুন; আর টাকা বা কোড পাঠাবেন না।
- 2প্রমাণ রাখুন: স্ক্রিনশট, নম্বর, লিংক, ট্রানজেকশন আইডি, সময়।
- 3ব্যাংক/এমএফএস/অপারেটরে যোগাযোগ করে দ্রুত অ্যাক্সেস ফ্রিজ করুন।
- 4দ্রুত জিডি করুন এবং সাইবার কর্তৃপক্ষকে রিপোর্ট করুন।
প্রধান শিক্ষা
দাম অনেক কম মনে হলে, সম্ভবত তা ভুয়া। শুধু বায়ার প্রোটেকশন সহ যাচাইকৃত ই-কমার্স প্ল্যাটফর্ম ব্যবহার করুন। স্বতন্ত্র সাইটে বিক্রেতার রেটিং এবং রিভিউ চেক করুন।