জাতীয় পরিচয়পত্র যাচাই ফাঁদ: একটি ক্লিক আমার সব কিছু কেড়ে নিল
একজন সরকারি চাকরিজীবী বর্ণনা করছেন কীভাবে একটি ভুয়া জাতীয় পরিচয়পত্র যাচাই লিংকে ক্লিক করতে তার ব্যাংক অ্যাকাউন্ট খালি হয়ে গেল।
নির্বাচন কমিশন পাঠিয়েছে বলে মনে হওয়া একটি এসএমএস এলো। বলছে এনআইডি যাচাই করতে হবে, সঙ্গে একটি লিংক। সতর্কবার্তা: ২৪ ঘণ্টার মধ্যে যাচাই না করলে এনআইডি বন্ধ হয়ে যাবে।
লিংকে ঢুকলাম — একদম সরকারি এনআইডি পোর্টালের মতো। এনআইডি নম্বর, মোবাইল নম্বর সব দিলাম। তারপর এলো "যাচাইয়ের জন্য" ব্যাংক হিসাবের তথ্য চাওয়া।
তাড়াহুড়ায় ছিলাম, বেশি ভাবিনি। কয়েক ঘণ্টার মধ্যে একের পর এক নোটিফিকেশন — ব্যাংক অ্যাকাউন্ট থেকে টাকা যাচ্ছে।
ব্যাংকে ফোন করার আগেই ২ লাখ টাকা চলে গেছে। প্রতারকেরা আমার তথ্য ব্যবহার করে মোবাইল ব্যাংকিংয়ে ঢুকে একাধিক অ্যাকাউন্টে টাকা সরিয়ে নিয়েছে।
এই পোস্ট সম্পর্কে
এটি একটি প্রথম-ব্যক্তির সচেতনতামূলক বিবরণ, যা এনআইডি ফিশিং অভিজ্ঞতা তুলে ধরেছে। নির্বাচন কমিশন বা এনআইডির ব্র্যান্ড ব্যবহার করে সরকারি পোর্টালের ভুয়া অনুকরণ বাংলাদেশে বহুল নথিভুক্ত একটি প্রতারণার ধরন। নির্বাচন কমিশন আনুষ্ঠানিকভাবে এই ধরনের ভুয়া পেজের বিরুদ্ধে সতর্ক করেছে (bdnews24.com, এপ্রিল ২০২৫)। এই ধরনের ঘটনার শিকার হলে সিআইডি সাইবার পুলিশ সেন্টারে অভিযোগ করুন অথবা ৯৯৯-এ কল করুন।
প্রতারকরা সাধারণত যেভাবে কাজ করে
- অফিসিয়াল মনে হয় এমন জরুরি SMS আসে।
- তাতে ভুয়া লিংক বা ভুয়া ভেরিফিকেশন চাওয়া থাকে।
- তথ্য দিলেই তা দিয়ে টাকা/তথ্য চুরি করা হয়।
নিরাপদ থাকার বাস্তব উপায়
- যাচাই ছাড়া জরুরি SMS-এর লিংকে ক্লিক করবেন না।
- SMS লিংকে না গিয়ে অফিসিয়াল অ্যাপ সরাসরি খুলুন।
- সন্দেহজনক SMS সার্ভিস প্রোভাইডারকে জানান।
সন্দেহ হলে এখনই যা করবেন
- 1সাথে সাথে যোগাযোগ বন্ধ করুন; আর টাকা বা কোড পাঠাবেন না।
- 2প্রমাণ রাখুন: স্ক্রিনশট, নম্বর, লিংক, ট্রানজেকশন আইডি, সময়।
- 3ব্যাংক/এমএফএস/অপারেটরে যোগাযোগ করে দ্রুত অ্যাক্সেস ফ্রিজ করুন।
- 4দ্রুত জিডি করুন এবং সাইবার কর্তৃপক্ষকে রিপোর্ট করুন।
প্রধান শিক্ষা
সরকারি ওয়েবসাইটগুলো .gov.bd ডোমেইন ব্যবহার করে। ভুয়া বা অননুমোদিত সাইটে কখনো ব্যাংক তথ্য দেবেন না। সন্দেহ হলে, অফিসিয়াল অফিসে যান বা যাচাইকৃত হেল্পলাইন নম্বরে কল করুন।