ভুয়া বিকাশ এসএমএস আমার অ্যাকাউন্ট খালি করে দিল
"বিকাশ" থেকে একটি নির্দোষ দেখতে এসএমএস তার মাসের সঞ্চয় হারাতে নিয়ে গেল।
ঢাকায় একটি ছোট মুদি দোকান চালাই। বেশিরভাগ লেনদেনই বিকাশে হয়। একদিন এসএমএস এলো — বিকাশ অ্যাকাউন্ট যাচাই করতে হবে, সঙ্গে একটি লিংক।
লিংকে গেলাম — দেখতে একদম বিকাশের আসল ওয়েবসাইটের মতো। মোবাইল নম্বর আর পিন দিলাম। স্ক্রিনে এলো "ত্রুটি হয়েছে, আবার চেষ্টা করুন।" হাল না ছেড়ে তিনবার চেষ্টা করলাম।
কয়েক মিনিটের মধ্যেই একের পর এক এসএমএস আসতে লাগল — অ্যাকাউন্ট থেকে টাকা যাচ্ছে। মাত্র ১০ মিনিটে ১ লাখ ৫০ হাজার টাকার পুরো ব্যালেন্স শেষ।
বিকাশ কাস্টমার কেয়ারে ফোন করলাম। তারা জানাল ওই এসএমএস তাদের পাঠানো নয় — প্রতারকেরা পিন চুরি করতে নকল ওয়েবসাইট বানিয়েছিল।
এই পোস্ট সম্পর্কে
এটি একটি প্রথম-ব্যক্তির সচেতনতামূলক বিবরণ, যা বিকাশ ফিশিং অভিজ্ঞতার কথা তুলে ধরেছে। ভুয়া এমএফএস এসএমএস ফিশিং বাংলাদেশে একটি বহুল নথিভুক্ত প্রতারণার ধরন। বিকাশ বারবার নিশ্চিত করেছে যে তারা কখনো এসএমএসে অ্যাকাউন্ট যাচাইয়ের লিংক পাঠায় না। এই ধরনের ঘটনার শিকার হলে সিআইডি সাইবার পুলিশ সেন্টারে অভিযোগ করুন অথবা ৯৯৯-এ কল করুন।
প্রতারকরা সাধারণত যেভাবে কাজ করে
- অফিসিয়াল মনে হয় এমন জরুরি SMS আসে।
- তাতে ভুয়া লিংক বা ভুয়া ভেরিফিকেশন চাওয়া থাকে।
- তথ্য দিলেই তা দিয়ে টাকা/তথ্য চুরি করা হয়।
নিরাপদ থাকার বাস্তব উপায়
- যাচাই ছাড়া জরুরি SMS-এর লিংকে ক্লিক করবেন না।
- SMS লিংকে না গিয়ে অফিসিয়াল অ্যাপ সরাসরি খুলুন।
- সন্দেহজনক SMS সার্ভিস প্রোভাইডারকে জানান।
সন্দেহ হলে এখনই যা করবেন
- 1সাথে সাথে যোগাযোগ বন্ধ করুন; আর টাকা বা কোড পাঠাবেন না।
- 2প্রমাণ রাখুন: স্ক্রিনশট, নম্বর, লিংক, ট্রানজেকশন আইডি, সময়।
- 3ব্যাংক/এমএফএস/অপারেটরে যোগাযোগ করে দ্রুত অ্যাক্সেস ফ্রিজ করুন।
- 4দ্রুত জিডি করুন এবং সাইবার কর্তৃপক্ষকে রিপোর্ট করুন।
প্রধান শিক্ষা
বিকাশ কখনো এসএমএসে লিংক পাঠায় না। কোনো ওয়েবসাইটে কখনো আপনার পিন প্রবেশ করবেন না। সর্বদা অফিসিয়াল URL ম্যানুয়ালি টাইপ করুন বা অফিসিয়াল অ্যাপ ব্যবহার করুন।