ভিক্ষুকের বিকাশ-নগদ অ্যাকাউন্টে জরুরি ফোন প্রতারণা: সিআইডির অভিযানে দম্পতি গ্রেপ্তার
সিআইডি জানায়, এক দম্পতি ভ্রাম্যমান ভিক্ষুকদের সিম ও বিকাশ/নগদ/রকেট অ্যাকাউন্ট সংগ্রহ করে ভুয়া হাসপাতাল-জরুরি ফোনে ভুক্তভোগীদের কাছ থেকে টাকা নিত।
২৪ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ তারিখে CID, Bangladesh Police চাঁপাইনবাবগঞ্জ-সংশ্লিষ্ট একটি মামলার তথ্য প্রকাশ করে, যেখানে ভ্রাম্যমান ভিক্ষুকদের নামে খোলা মোবাইল ফাইন্যান্সিয়াল সার্ভিস অ্যাকাউন্টকে প্রতারণার অর্থ নেওয়ার রুট হিসেবে ব্যবহার করার অভিযোগে এক দম্পতিকে গ্রেপ্তার করা হয়। সিআইডি জানায়, ২৩ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ তারিখে রাজশাহী মেট্রোপলিটনের পবা থানা এলাকায় অভিযান চালিয়ে তাদের ধরা হয়।
সিআইডির ভাষ্য অনুযায়ী, বাড়িতে ভিক্ষা চাইতে আসা ভিক্ষুকদের সরকারি রেশন, ভাতা বা অন্যান্য সুযোগ-সুবিধা পাইয়ে দেওয়ার প্রলোভন দেওয়া হতো। বিনিময়ে তাদের নিজের নামে নিবন্ধিত সিম কার্ড ও বিকাশ, নগদ, রকেটসহ এমএফএস অ্যাকাউন্টের নিয়ন্ত্রণ নিয়ে নিত প্রতারক দম্পতি।
এরপর সেই নম্বরগুলো ব্যবহার করে আতঙ্কভিত্তিক পারিবারিক জরুরি ফোন করা হতো। ভুক্তভোগীকে বলা হতো তার মা, মেয়ে, স্ত্রী বা নিকটাত্মীয় দুর্ঘটনায় পড়েছে বা হাসপাতালে আশঙ্কাজনক অবস্থায় আছে, দ্রুত টাকা না পাঠালে চিকিৎসা হবে না। কথোপকথনকে বিশ্বাসযোগ্য করতে স্বামী পুরুষ কণ্ঠে এবং স্ত্রী নারী কণ্ঠে কথা বলত বলে সিআইডি জানায়।
টাকা পেলেই অপরাধে ব্যবহৃত সিম ও মোবাইল নষ্ট করে ফেলা হতো, যাতে নিজেদের আড়ালে রাখা যায়। অভিযানের সময় প্রতারণালব্ধ নগদ ২১ লাখ ৩০ হাজার টাকা, ৪টি মোবাইল ফোন এবং ৪টি সিম কার্ড উদ্ধার করা হয়েছে বলে সিআইডি জানায়।
মামলার বিবরণে একটি উদাহরণ হিসেবে বলা হয়, প্রতারক চক্র সুইডেনপ্রবাসী বোন পরিচয়ে ফোন করে অসুস্থ হয়ে হাসপাতালে ভর্তি থাকার গল্প বানিয়ে এক পরিবারের কাছ থেকে বিভিন্ন সময় মোট ৪ লাখ ৮৫ হাজার ৯৬০ টাকা নেয়। পরে প্রকৃত আত্মীয়ের সঙ্গে যোগাযোগ করে প্রতারণা ধরা পড়ে; ২৯ এপ্রিল ২০২৫ তারিখে জিডি করা হয় এবং ৭ মে ২০২৫ তারিখে সেটি নিয়মিত মামলায় রূপ নেয়।
CyberWise BD সতর্কতা: কান্নাজড়িত কণ্ঠ, হাসপাতালের নাম বা আত্মীয়ের পরিচয় শুনেই টাকা পাঠাবেন না। আগে সেই আত্মীয়ের সেভ করা আসল নম্বরে কল দিন, অন্য পরিবারের সদস্যের সঙ্গে মিলিয়ে দেখুন, প্রয়োজনে হাসপাতালেও যাচাই করুন। আর কোনো অবস্থাতেই সরকারি সুবিধার লোভে নিজের সিম বা বিকাশ/নগদ/রকেট অ্যাকাউন্ট অন্যের হাতে দেবেন না, কারণ এগুলো পরে প্রতারণা ও আইনি ঝুঁকির মাধ্যম হতে পারে।
প্রতারকরা সাধারণত যেভাবে কাজ করে
- আত্মীয়/পরিচিতজনের কণ্ঠ নকল করে কথা বলে।
- হাসপাতাল/পরীক্ষা/দুর্ঘটনার জরুরি গল্প বানায়।
- অচেনা নম্বরে দ্রুত টাকা পাঠাতে চাপ দেয়।
নিরাপদ থাকার বাস্তব উপায়
- টাকা পাঠানোর আগে সেভ করা আসল নম্বরে কল দিন।
- পরিবারে জরুরি যাচাইয়ের জন্য কোড-ওয়ার্ড ঠিক করুন।
- সন্দেহ হলে আগে থামুন, পরে যাচাই করুন।
সন্দেহ হলে এখনই যা করবেন
- 1সাথে সাথে যোগাযোগ বন্ধ করুন; আর টাকা বা কোড পাঠাবেন না।
- 2প্রমাণ রাখুন: স্ক্রিনশট, নম্বর, লিংক, ট্রানজেকশন আইডি, সময়।
- 3ব্যাংক/এমএফএস/অপারেটরে যোগাযোগ করে দ্রুত অ্যাক্সেস ফ্রিজ করুন।
- 4দ্রুত জিডি করুন এবং সাইবার কর্তৃপক্ষকে রিপোর্ট করুন।
প্রধান শিক্ষা
জরুরি টাকার ফোনকল সবসময় স্বতন্ত্রভাবে যাচাই করতে হবে, আর কোনো প্রতিশ্রুতির বিনিময়ে নিজের সিম বা এমএফএস অ্যাকাউন্ট অন্যকে দেওয়া যাবে না।