ফেসবুক বন্ধু যে আমার হৃদয় এবং সঞ্চয় চুরি করল
একজন শিক্ষকের রোমান্স স্ক্যামে পড়ে জীবনের সঞ্চয় হারানোর হৃদয়বিদারক গল্প।
আমি একজন স্কুলশিক্ষক। গত বছর ফেসবুকে এক ব্যক্তির ফ্রেন্ড রিকোয়েস্ট পাই। তিনি পরিচয় দিলেন সিরিয়ায় জাতিসংঘের হয়ে কাজ করা একজন ডাক্তার হিসেবে। প্রোফাইলে হাসপাতাল ও শিশুদের সাহায্য করার ছবি।
প্রতিদিন কথা হতে লাগল। মানুষটি ছিলেন যত্নশীল, কথা বলতেন মন ছুঁয়ে দেওয়ার মতো। মাসখানেক পর বললেন বাংলাদেশে আসতে চান, কিন্তু ভ্রমণের খরচের জন্য একটু সাহায্য দরকার।
তারপর শুরু হলো একের পর এক কারণ — ভিসা ফি, হঠাৎ অসুস্থতার খরচ, বারবার বাতিল হওয়া ফ্লাইট টিকিট। প্রতিবার বলতেন শিগগিরই আসছেন।
মোট পাঁচ লাখেরও বেশি টাকা পাঠিয়েছিলাম — অবসর তহবিলসহ পুরো সঞ্চয়। শেষ পর্যন্ত আর টাকা পাঠাতে পারিনি। সঙ্গে সঙ্গে তিনি উধাও। প্রোফাইলটিও মুছে ফেলা হলো।
এই পোস্ট সম্পর্কে
এটি একটি প্রথম-ব্যক্তির সচেতনতামূলক বিবরণ, যা ফেসবুক রোমান্স স্ক্যামের অভিজ্ঞতা তুলে ধরেছে। ভুয়া বিদেশি পেশাদার পরিচয় ব্যবহার করে রোমান্স স্ক্যাম বাংলাদেশে বহুল প্রতিবেদিত, যার মামলা সিআইডি দ্বারা নথিভুক্ত ও প্রধান জাতীয় পত্রিকায় প্রকাশিত হয়েছে। এই ধরনের ঘটনার শিকার হলে সিআইডি সাইবার পুলিশ সেন্টারে অভিযোগ করুন অথবা ৯৯৯-এ কল করুন।
প্রতারকরা সাধারণত যেভাবে কাজ করে
- ধীরে ধীরে আবেগী সম্পর্ক তৈরি করা হয়।
- বিশ্বাস পেতে ভুয়া বিদেশি/পেশাগত পরিচয় দেয়।
- জরুরি অবস্থা, ভ্রমণ, কাস্টমস বা ভিসার নামে টাকা চায়।
নিরাপদ থাকার বাস্তব উপায়
- টাকা দেওয়ার আগে পরিচয় স্বাধীনভাবে যাচাই করুন।
- ব্যক্তিগত ছবি/নথি শেয়ার করবেন না।
- টাকা পাঠানোর আগে বিশ্বস্ত কারও সাথে কথা বলুন।
সন্দেহ হলে এখনই যা করবেন
- 1সাথে সাথে যোগাযোগ বন্ধ করুন; আর টাকা বা কোড পাঠাবেন না।
- 2প্রমাণ রাখুন: স্ক্রিনশট, নম্বর, লিংক, ট্রানজেকশন আইডি, সময়।
- 3ব্যাংক/এমএফএস/অপারেটরে যোগাযোগ করে দ্রুত অ্যাক্সেস ফ্রিজ করুন।
- 4দ্রুত জিডি করুন এবং সাইবার কর্তৃপক্ষকে রিপোর্ট করুন।
প্রধান শিক্ষা
অনলাইন সম্পর্কে সবসময় সতর্ক থাকুন, বিশেষত বিদেশে কর্মরত দাবি করা অচেনা মানুষের সাথে। যাকে সরাসরি কখনো দেখেননি, তাকে টাকা পাঠাবেন না।