"ফ্রি অ্যান্টিভাইরাস" যা আমার কম্পিউটার সংক্রমিত করল
কীভাবে একটি ভুয়া অ্যান্টিভাইরাস সফটওয়্যার ডাউনলোড র্যানসমওয়্যার এবং মূল্যবান পরিবারের ছবি হারাতে নিয়ে গেল।
কম্পিউটার ধীর হয়ে যাওয়ায় সার্চ করে ফ্রি অ্যান্টিভাইরাসের একটি লিংক পেলাম। দেখতে একদম আসল সফটওয়্যারের মতো — ডাউনলোড করে ইনস্টল করলাম।
ইনস্টল করার পরপরই কম্পিউটার আরও ধীর হয়ে গেল। পর্দায় একের পর এক পপ-আপ আসতে লাগল — বলছে কম্পিউটারে শত শত ভাইরাস আছে, সরাতে হলে টাকা দিতে হবে। ফাইলে ঢুকতেই পারছিলাম না।
সফটওয়্যারটি আসলে আমার সব ফাইল এনক্রিপ্ট করে ফেলেছিল — ১০ বছরের পারিবারিক ছবিসহ। ফাইলগুলো ফেরত পেতে বিটকয়েনে ১ লাখ টাকা চাওয়া হলো।
একটি দোকানে নিয়ে গেলাম। তারা জানাল এটি র্যানসমওয়্যার — টাকা দিলেও ফাইল ফেরত পাওয়ার কোনো নিশ্চয়তা নেই। সব ছবি চিরতরে হারিয়ে গেল।
এই পোস্ট সম্পর্কে
এটি একটি প্রথম-ব্যক্তির সচেতনতামূলক বিবরণ, যা র্যানসমওয়্যার অভিজ্ঞতার কথা তুলে ধরেছে। ভুয়া সিকিউরিটি সফটওয়্যারের মাধ্যমে র্যানসমওয়্যার ছড়ানো একটি বিশ্বব্যাপী নথিভুক্ত প্রতারণার ধরন, যা বাংলাদেশেও দেখা যায়। এই ধরনের ঘটনার শিকার হলে সিআইডি সাইবার পুলিশ সেন্টারে অভিযোগ করুন অথবা ৯৯৯-এ কল করুন।
প্রতারকরা সাধারণত যেভাবে কাজ করে
- অবিশ্বস্ত ফাইল/অ্যাপ থেকে ডিভাইসে ম্যালওয়্যার ঢোকে।
- ফাইল লক হয়, লগইন তথ্য চুরি হয়।
- প্রতারক টাকা দাবি করে বা চুরি করা অ্যাক্সেস ব্যবহার করে।
নিরাপদ থাকার বাস্তব উপায়
- শুধু অফিসিয়াল উৎস থেকে সফটওয়্যার নিন।
- সিকিউরিটি আপডেট ও ব্যাকআপ চালু রাখুন।
- ইনফেকশন হলে ডিভাইস আলাদা করে বিশেষজ্ঞ সহায়তা নিন।
সন্দেহ হলে এখনই যা করবেন
- 1সাথে সাথে যোগাযোগ বন্ধ করুন; আর টাকা বা কোড পাঠাবেন না।
- 2প্রমাণ রাখুন: স্ক্রিনশট, নম্বর, লিংক, ট্রানজেকশন আইডি, সময়।
- 3ব্যাংক/এমএফএস/অপারেটরে যোগাযোগ করে দ্রুত অ্যাক্সেস ফ্রিজ করুন।
- 4দ্রুত জিডি করুন এবং সাইবার কর্তৃপক্ষকে রিপোর্ট করুন।
প্রধান শিক্ষা
শুধুমাত্র অফিসিয়াল, যাচাইকৃত উৎস থেকে সফটওয়্যার ডাউনলোড করুন। এলোমেলো ওয়েবসাইট থেকে ফ্রি অ্যান্টিভাইরাস অফার প্রায় সবসময়ই ম্যালওয়্যার।